logo
   প্রচ্ছদ  -   আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের মন্তব্য অসম্মানজনক: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Posted on Jul 10, 2019 12:33:07 PM.

ট্রাম্পের মন্তব্য অসম্মানজনক: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। মঙ্গলটার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অসম্মানজনক ও ভুল’।

এর আগে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিমকে যুক্তরাষ্ট্র আর চায় না, এমন আভাস দিয়ে গত ৯ জুলাই টুইটারে পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেই টুইটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-রও সমালোচনা করেন তিনি। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে থেরেসা মে-কে ব্যর্থ দাবি করেন ট্রাম্প বলেন, তার পরামর্শ শুনলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে আর এ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না।

মূলত ট্রাম্পের এমন টুইটে ক্ষুব্ধ হয় যুক্তরাজ্য। একইদিন ট্রাম্পের টুইটটি রিটুইট করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। এতে তিনি বলেন, ট্রাম্প যেসব কথা বলেছেন সেগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জন্য অসম্মানজনক ও ভুল। মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও তাদের গোপন ব্যক্তিগত অভিমত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠান। আমাদের রাষ্ট্রদূতও একই কাজ করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মৈত্রী ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর সঙ্গে আমি একমত। তবে মিত্রদের উচিত পরস্পরের প্রতি সম্মান দেখানো। থেরেসা মে সবসময়ই আপনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আসছেন।

জেরেমি হান্ট বলেন, রাষ্ট্রদূতকে সরকারই নিয়োগ দিয়েছে এবং আমি যদি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হই যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রদূতই বহাল থাকবেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারখের নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো কিছু ইমেইল সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এসব মেইলে ট্রাম্পকে ‘অদক্ষ’ ও ‘অকার্যকর’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ওই মেইল ফাঁস হয়ে গেলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বসেন তিনি। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা ভালো খবর যে যুক্তরাজ্য নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে।’ এসব নিয়ে দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, কিভাবে এসব ইমেইল ফাঁস হলো, সেটি তারা তদন্ত করে দেখতে শুরু করেছে।

২০১৭ সাল থেকে প্রায় দুই বছর সময়কালের এসব ইমেইলে স্যার কিম খোলাখুলিভাবে ইরান, রাশিয়া ও চীন সম্পর্কে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ২২শে জুনের একটি মেমোতে রাষ্ট্রদূত লিখেছেন যে, ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অসংলগ্ন ও বিশৃঙ্খল। দেশটির ব্যাপারে আমেরিকার নীতি খুব তাড়াতাড়ি আরও সুসংলগ্ন হবে বলে মনে হয় না। এটা একটা বিভক্ত প্রশাসন।

ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা যায়, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বেধে যাবার আশঙ্কা এখনও আছে। কেননা ট্রাম্পের চারপাশে রয়েছেন উগ্রপন্থী চিন্তারধারার একদল উপদেষ্টা। দুই বছর আগের একটি বিস্তারিত বিবরণীতে ট্রাম্প প্রচারণা ও রাশিয়ার গোপন আঁতাত নিয়েও কথা বলেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম দিন থেকে হোয়াইট হাউসের ভেতরের অভ্যন্তরীণ লড়াই এবং বিশৃঙ্খলার ভেতরে পড়েছে এবং কোনও না কোনওভাবে রাশিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে কেলেঙ্কারির মধ্যে পড়েছে।

রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, আগের কয়েক দশকে যখন ট্রাম্প এবং কুশনারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিতে পড়েছিল, তখন কৌশলী রাশিয়ান অর্থ লগ্নিকারীরা তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

লন্ডনে পাঠানো একটি বার্তায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, এই আমেরিকা ফার্স্ট নীতির প্রশাসন বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় গভীর ক্ষতি করে ফেলতে পারে। ট্রাম্প হয়তো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সমালোচনা করে, বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো নাকচ করা, রক্ষণশীল পদক্ষেপ চালু করার মতো কাজ করতে পারেন, এমনকি সেটা মিত্রদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো এবং চীনের বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর কর বসিয়েছেন ট্রাম্প। স্যার কিম বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলোকে অবহেলা করতে পারেন, এমনকি জাতিসংঘে অনুদানেও কাটছাঁট করতে পারেন।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লন্ডনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বৈদেশিক নীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নে এমনকি পুরনো মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী-বরিস জনসন অথবা জেরেমি হান্টের জন্য খুব সহজ হবে না ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা- যারা হয়তো ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে মহাসাগরের অন্য পাড়ে আরেকটি সহজ বাণিজ্যের পথ খুঁজতে চাইবেন। স্যার কিম বিশ্বাস করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে চাপ দিয়ে যাবেন যাতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র অথবা চীন, কারও একজনকে বেছে নেয়। সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি।




  এই বিভাগ থেকে আরও সংবাদ

   বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো মুক্তার সন্ধান আবুধাবিতে
   ভারতে প্রতি ১৬ মিনিটে একজন নারী ধর্ষণের শিকার
   কাশ্মীরে গোলাগুলি, নিহত ৩
   লন্ডনে ফিরতে চান আইএস বধূ শামীমা
   আদিম মানুষের মতোই চার পায়ে ভর দিয়ে চলেন যারা
   অভিষেক হলো জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতোর
   একটা মানুষও পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাবে না, আমি পাহারাদার: মমতা
   কারাগার থেকে হাসপাতালে নওয়াজ শরীফ
   দ্বিতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন জাস্টিন ট্রুডো
   তেহরানের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড
   কানাডায় চলছে ৪৩ তম সাধারণ নির্বাচন
   কঙ্গোয় যাত্রীবাহী বাস উল্টে ৩০ জনের প্রাণহানি
   ইইউকে সই ছাড়া চিঠি পাঠালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
   ব্রাজিলে ভবন ধসে ৯ জনের মৃত্যু
   প্রথমবার মহাকাশে হাঁটলেন নারী নভোচারীদের দল
   কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ
   উত্তাল চিলিতে জরুরি অবস্থা জারি
   পাকিস্তানের মসজিদে কোরআন তিলাওয়াত শুনলেন উইলিয়াম-কেট মিডলটন
   বোমা মেরে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি উড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র
   ব্যাপক সংঘর্ষের পর গুজমানের ছেলেকে ছেড়ে দিলো মেক্সিকান পুলিশ
   যুক্তরাষ্ট্রে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে বিমান
   মহাবন আমাজন নিয়ে যত অজানা তথ্য !
   মাদক সম্রাট ‘এল চাপো’র পুত্র গ্রেফতার, ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ
   সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন মোদি
   ভয়াবহ রূপ নিয়েছে লেবাননের দাবানল
   ব্রেক্সিট চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ব্রিটেন-ইউরোপীয় ইউনিয়ন
   ফিলিপাইনে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
   হংকং প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের হুঁশিয়ারি
   ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
   নীল নদের পশ্চিম তীরে মিলল সুরক্ষিত কাঠের কফিন


  পুরনো সংখ্যা